সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের সদ্য পুরস্কৃত বই বাজারে বিকোচ্ছে হটকেকের মতো। সাহিত্য আকাদেমির ট্যাগ ঝোলানো বই বাঙালির নজরে না পড়ে যায় কোথায়! সেই বইয়েরই এক পাঠকের কাঁচামিঠে-টকঝাল-নোনতা অভিজ্ঞতা শোনা যাক। লিখছেন সিদ্ধার্থ দে।

 

সঞ্জীববাবু সাহিত্য অকাদেমি পেয়েছেন শুনে অধিকাংশ বাঙালি পাঠক ভাতঘুম ভাঙা গলায় বলেছিলো, “ও মা, সে কি! এতদিন পান নি বুঝি!!”
আমার মনে হয় পুরস্কার প্রাপককে যারা বেছে নিয়েছেন, সেই বিচারকমণ্ডলীও বোধয় ঘরোয়া আলোচনায় হঠাৎই আবিষ্কার করেছিলেন যে সঞ্জীববাবু এতোদিনেও সাহিত্য অকাদেমি পান নি… ব্যাস! আর যায় কোথায়! দাও তবে ওঁকেই … ওঁর সাহিত্যকীর্তি নিয়ে তো কোনো সংশয় নেই, এতো বছর ধরে লিখছেন, এতো জনপ্রিয় এবং সমাদৃত লেখক! Lifetime Achievement জাতীয় কিছু থাকলে নাহয় তাই দেওয়া যেত। তা নেই যখন, খোঁজ নাও হালে কি বই লিখেছেন; সেটাকেই দাও পুরস্কার!

সেই বইই হলো ‘শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন’।

যেমনটা কল্পনা করলাম তেমনভাবে যদি না দেওয়া হয়ে থাকে পুরস্কারটা, তাহলে বলতে হবে বাংলা সাহিত্যের অবস্থা ইদানিং খুব করুণ। যাঁরা বাংলা সাহিত্য নিয়মিত পড়েন ও চর্চা করেন তাঁরা বলতে পারবেন। কারণ বইটায় কিস্যু নেই।

 

sri krishna
Photograph by Siddhartha Dey

 

পাতলা একটা বই, ১০০ পাতার। যদি আপনি মহাভারত পড়ে থাকেন — তাও পুরোটা না পড়লেও চলবে, শুধু সভাপর্ব আর ভীষ্মপর্ব — তাহলে এই বইতে আপনি নতুন কিছু পাবেন না। তার উপরে যদি খানকতক ভাদুড়ী বা ভট্টাচার্য গিলে থাকেন, তাহলে আরোই বিরক্ত হবেন। যদি ভেবে থাকেন যে মহাভারতের কাহিনীর একটা কাল্পনিক পুনর্নির্মাণ পাবেন, তাহলেও করবেন মস্ত ভুল। খানিকটা শ্রীকৃষ্ণকে খোলা চিঠির ধাঁচে লেখা এই পাতাগুলোয় লেখক সভাপর্বের এবং ভগবদ্গীতার অন্তর্গত কিছু কাহিনী ক্লাস এইটের ছাত্রের ‘নিজের ভাষায় উত্তর লেখো’ ধাঁচে লিখে গেছেন আর থেকে থেকেই ‘হা কৃষ্ণ’, ‘হা প্রভু আমার’ বলে ন্যাকা কান্না জুড়েছেন। কৃষ্ণ মানুষ ছিলেন না অবতার তা নিয়েও কোনো চর্চা করেন নি, বা চিন্তার উপাদান যোগান নি।

সবচেয়ে বড় ঢপটা সঞ্জীববাবু দিয়েছেন বইটার শিরোনামে। আপনি যদি আশা করে থাকেন যে বইটা নিদেনপক্ষে মুষলপর্বের ঘটনাবলীর একটা বিস্তারিত আখ্যান আপনার সামনে তুলে ধরবে, তাহলে সে আশাতেও gammaxene। বইটার ঠিক শেষ দশটা পাতা শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন নিয়ে। এতো বড় ধাপ্পা রঙ্গনাথ কৃষ্ণও দিয়েছেন কিনা সন্দেহ।

 

তবে হ্যাঁ। দুচারটে কাজের কথা পেয়েছি বইটায় — হরিবংশের একটা দুটো ঘটনা আর ভাগবত পুরাণের এক আধটা আখ্যান, যেগুলো আগে জানতাম না।
আর একটা পদ্য বইটায় লিখেছেন বলে সঞ্জীববাবুকে প্রণাম। আমি বহুবার মনে মনে বলেছি লাইন দুটো।

“শত্রু ভেবে শিশুপাল মুক্তিপদ পায়,
যেভাবে যে ভাবে কৃষ্ণ, সেইভাবে পায়।”

কাজেই, মহাভারত কি বস্তু যদি জানা না থাকে তাহলে পড়ুন, ভালো লাগতে পারে। আর তা নইলে, সঞ্জীববাবুকে ভালোবেসে বইটা কিনে ফেলুন, ১৫০ টাকা মাত্র দাম, সাজিয়ে রাখুন তাকে। পড়বার দরকার নেই।

 

 

Title photograph by Hitesh Bende

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

Powered by WordPress.com.

Up ↑

%d bloggers like this: